শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য বাসায় বসেই টিকেট কাটুন

ঈদ মানে কাছের মানুষের সাথে নিজের আনন্দের সময়টুকু ভাগাভাগি করা। আর ঢাকা শহরে বসবাসরত অনেক মানুষের নিকট আত্নীয় গ্রামে থাকায়, সবাই চায় ঈদ গ্রামে করতে। আর গ্রামেই যেতেই সবাইকে যানবাহনের টিকেট কাটা নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।



ট্রেনে যাতায়ত ব্যবস্থা ভালো এবং খরচ কম হওয়ায় অনেকের যাতায়তের পছন্দের তালিকায় ট্রেন সবসময় শীর্ষে থাকে। ট্রেনের টিকেট কাটার ঝামেলা বরাবরই সবাইকে পোহাতে হয়, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটতে হয়।
ট্রেন যাত্রীদের জন্য একটি সুখবর হচ্ছে এখন থেকে আপনি ঘরে বসেই ট্রেনের টিকেট কাটতে পারবেন।
আসুন কিভাবে ঘরে বসে টিকেট কাটবেন, তা দেখে নেই:
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া: (শুধুমাত্র একবার করতে পারবেন)


১. প্রথমে www.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে “Purchase e-ticket” বাটনে ক্লিক করুন ।
৩. Bangladesh Railway এবং CNS Ltd. লেখা একটি নতুন ওয়েবসাইট খুলে যাবে।
৪. ওয়েবসাইটটির নীচের দিকে “Sign up” বাটনে ক্লিক করুন।
৫. “Create an Account” নামের নতুন একটি পেজ আসবে। এখানে “Personal Information” এবং “Extra Information” এর সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে পূরণ করতে: Security code এর পাশে প্রদর্শিত “Security Code” দিয়ে পূরণ করে Register বাটনে ক্লিক করতে হবে।
৬. সকল তথ্যাদি সঠিক থাকলে “Registration Successful” নামে একটি নতুন পেইজ আসবে।
৭. এইবার সেখান থেকে আপনার মেইলে একটি লিঙ্ক যাবে। আপনার মেইল খুলে সেই লিঙ্কে ক্লিক করলে আপনার রেজিস্ট্রেশনটি সম্পন্ন হবে।

ক্রয় প্রক্রিয়া:
১. প্রথমে www.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে “Purchase e-ticket” বাটনে ক্লিক করুন ।
৩. Bangladesh Railway এবং CNS Ltd. লেখা একটি নতুন ওয়েবসাইট খুলে যাবে।
৪. মেইলের ঠিকানা, পাসওয়ার্ড এবং সিকিউরিটি কোডটি সঠিকভাবে পূরণ করে সাইটে লগইন করুন।
৫. এইবার একটি নতুন পেইজ আসবে, সেখান থেকে “Purchase e-ticket” বাটনে ক্লিক করুন ।
৬. এইবার আপনার ভ্রমণ তারিখ, প্রারম্ভিক স্টেশন, গন্তব্যস্থল, ট্রেনের নাম, শ্রেণী, টিকেট সংখ্যা যেভাবে রয়েছে তা পূরণ করতে হবে। পূরণ শেষে সার্চ বাটনে ক্লিক করে দেখে নিন “Registration Seat Available” কি না? থাকলে “Purchase ticket” বাটনে ক্লিক করতে হবে।
৭. ক্রেডিট কার্ড, ক্যাশ কার্ড, ব্র্যাক ব্যাঙ্কের একাউন্টের মাধ্যমে আপনার টাকা জমা করুন।
৮. টিকেট ক্রয় করার পর আপনার মেইলে টিকেটটির প্রিন্ট নিয়ে ফটো আইডিসহ ই-টিকেট প্রদত্ত “Ticket Print Information” প্রদান করে সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে ছাপানো টিকেট সংগ্রহ করুন।

কিছু বিষয় খেয়াল রাখবেন:
১. যত দ্রুত সম্ভব টিকেট বুকিং দিবেন, নূন্যতম ৩ দিন আগে।
২. অনলাইনে টিকেট কাটার জন্য ১ মিনিট সময় পাবেন, সুতরাং তাড়াতাড়ি ফর্মটি পূরণ করে টিকেট কেটে নিন।
তবে বর্তমানে কিছু কিছু সময়ে রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে, পেইজটি ওপেন হয় না, তাই পুরোপুরি এই ব্যবস্থাটির উপর নির্ভরশীল না হয়ে, আগে থেকে চেষ্টা করে দেখুন টিকেট কাটতে পারেন কি না?

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

৭২০ কোটি মার্কিন ডলারে নোকিয়াকে কিনছে মাইক্রোসফট

 কম্পিউটার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট কিনে নিচ্ছে নোকিয়ার মোবাইল ফোন এর ব্যবসা। ফিনল্যান্ড ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, মোবাইল ফোন ব্যবসা বিক্রি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাও (সিইও) মাইক্রোসফটে যোগ দেবেন। প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি হচ্ছে ৭২০ কোটি মার্কিন ডলারে।

২০১৪ সালের প্রথম তিনমাসের মধ্যেই মাইক্রোসফটের কাছে নোকিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসা বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ জন্য নোকিয়ার অংশীদার ও তদারককারীদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফটের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ বেলমার বলেন, 'এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃঢ় পদক্ষেপ। এটি উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মী, অংশীদার এবং গ্রাহকদের বিজয়।' অপর এক বিবৃতিতে নোকিয়া জানিয়েছে, তারা আশা করছে, চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর নোকিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন এলপসহ প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা জো হারলো, জুহা পুটকিরান্টা, টিমো টোইকানেন এবং ক্রিস ওয়েবারও মাইক্রোসফটে যোগ দেবেন।

বুধবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৩

Upcoming আসুস Vivobook X102BA Touchscreen ল্যাপটপ বিবরণ ফাঁস


আসুস শীঘ্রই Vivobook X102BA নামক একটি উইন্ডোজ ৮ ভিত্তিক touchscreen ল্যাপটপ প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছে। চিত্র সহ ল্যাপটপ বিবরণ গতকাল ফাঁস হয়ে গেল। এই ডিভাইসটি 1.0 GHz অথবা AMD যেমন Radeon HD 8180 গ্রাফিক্স সময়ে অথবা AMD A4-1200 প্রসেসর দ্বারা চালিত, 1366 × 768 রেজল্যুশন সঙ্গে একটি 10.1-ইঞ্চি touchscreen থাকবে। এটা 320 গিগাবাইট বা 500 গিগাবাইট HDD ও RAM-র অপশন 2 গিগাবাইট বা 4 গিগাবাইট  হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আসুস এছাড়াও বিনামূল্যে মাইক্রোসফট অফিস কপি এবং ডিভাইসের সাথে  অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। দাম প্রায় $ 440 ডলার হতে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাইক্রোসফট SkyDrive প্রো ব্যবহারকারীদের জন্য 25GB করার স্টোরেজ স্পেস বৃদ্ধি

মাইক্রোসফট গতকাল SkyDrive প্রো, ব্যবসার জন্য cloud স্টোরেজ সেবা ব্যবহারকারীদের জন্য স্টোরেজ স্পেস বৃদ্ধির ঘোষণা করেন. SkyDrive প্রো একটি ফাইল সিঙ্ক সমাধান বৈশিষ্ট্য বিতরণ, এবং এছাড়াও কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সম্মতি, এবং বিষয়বস্তু পরিচালক নিয়ন্ত্রণ উপলব্ধ করা হয়। অফিস 365 ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য প্রো SkyDrive করার জন্য নিম্নলিখিত উন্নতি গতকাল ঘোষণা করা হয়।

প্রত্যেক ব্যবহারকারীর এখন SkyDrive প্রো স্টোরেজ স্পেস (আপ 7 গিগাবাইট থেকে) 25 গিগাবাইট পায়।
এখন আপনি 25 গিগাবাইট থেকে 50 গিগাবাইট আপ এবং 100 গিগাবাইট ডিফল্ট অতিক্রম ব্যবহারকারীদের SkyDrive প্রো স্টোরেজ বাড়াতে পারেন।

শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৩

মৃত্যুর পর তথ্যের ভবিষ্যত ঠিক করা যাবে গুগলে


মৃত্যুর পর ‘ডিজিটাল সম্পত্তির’ কি হবে- এ উদ্বেগ থেকে ‘নেটিজেনদের’ মুক্তি দিতে বিশেষ সেবা চালু করছে ইন্টারনেট কোম্পানি গুগুল। এর মাধ্যমে গুগল অ্যাকাউন্টধারীরা অনলাইনে তাদের জমা রাখা তথ্য ও ফাইলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারবেন। তারা চাইলে তাদের মৃত্যুর পর এসব তথ্য মুছে ফেলবে গুগল। অথবা পাঠিয়ে দেয়া হবে  অ্যাকাউন্টধারীর ইচ্ছে অনুযায়ী অন্য কারো ওয়েব ঠিকানায়।
ই মেইল আদান প্রদানের সেবা ‘জি মেইল’, সামাজিক যোগাযোগের সাইট ‘গুগল প্লাস’, ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব, ফটো শেয়ারিং সেবা পিকাসা এবং ব্লগ সাইট ব্লগারসহ গুগলের অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে। 
এতে বলা হয়, ইন্টারনেটে যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকার পাশাপাশি অনলাইনে আপলোড করা ব্যক্তিগত তথ্য, লেখা ও ছবির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্নটিও দিনে দিনে জোরালো হয়ে উঠছে। মৃত্যুর পর এসব তথ্যের কি হবে- তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখা এসেছে ইন্টারনেটে। ফলে সেবাদানকারী কোম্পানিগুলোও এ নিয়ে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।
গুগলের এক ব্লগপোস্টে বলা হয়,  “মৃত্যুর পর আপনার ডিজিটাল জীবনের কী হবে সে পরিকল্পনা সাজাতে এই ফিচার সহায়ক হবে বলে আমরা মনে করি। এতে একদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে আপনার মৃত্যুর পরও আপনার প্রিয় মানুষটির জীবন হয়তো একটু সহজ করা যাবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, গুগল ব্যবহারকারীরা চাইলে তিন, ছয়, নয় বা ১২ মাস সময় বেঁধে দিতে পারবেন- যে সময় পর্যন্ত অব্যবহৃত থাকলে অ্যাকাউন্টটি ‘ডিলিট’ করে দেবে গুগল।
অথবা ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট কারো অ্যাকাউন্টের কথা গুগলকে জানিয়ে দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময় পর সেই ওয়েব ঠিকানাতেই তার সব তথ্য পাঠিয়ে দেয়া হবে।     
আর অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা বা তথ্য স্থানান্তরের আগে ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর বা বিকল্প অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করে সতর্ক করবে গুগল।    
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের উদ্বেগের কারণে অন্যান্য বড় ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোও
এ ধরনের বিশেষ সেবা চালু করছে। যেমন সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেইসবুক একটি সুবিধা দিচ্ছে যার মাধ্যমে কোনো আত্মীয় তার স্বজনের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়া কিংবা স্মৃতি হিসবে ফেইসবুক পৃষ্ঠাটি সংরক্ষণ করতে পারবেন।

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৩

বিদায় রোডরানার

সুপার কম্পিউটারেরও বয়স বাড়ে! গতির কাছে হেরে যেতে হয়! বিশ্বের এক সময়ের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে হিসাব করার ক্ষমতা সম্পন্ন রোডরানার কম্পিউটারকে ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
৩১ মার্চ রোডরানারের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এখন এই কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চলতি মাসেই আলাদা করে ফেলা হবে এর সব যন্ত্রাংশ। খবর বিবিসির।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস বা আইবিএমের তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের সুপারকম্পিউটার রোডরানারকে অবসরে যেতে হচ্ছে গতির দৌড়ে হেরে যাওয়ার কারণেই। ২০০৮ সালে বিশ্বের দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটার হিসেবে চালু হয়েছিল রোডরানার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে নিউক্লিয়ার অস্ত্র ও ভাইরাস গবেষণায় ব্যবহার করা হতো রোডরানারকে। গবেষকেরা বলছেন, গবেষণাগারে আরও দ্রুতগতির কম্পিউটার প্রয়োজন পড়ায় বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটারকেও অবসরে যেতে হলো। 




এক সময়ের বিশ্বের প্রথম ‘পেটাফ্লপ’ বা সেকেন্ডে ১ হাজার ট্রিলিয়ন গণনা করার ক্ষমতাসম্পন্ন সবচে ক্ষমতাধর সুপারকম্পিউটার রোডরানারকে অবসর দিয়ে আরও দ্রুতগতির ‘সেলিও’ সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করবে লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষকেরা। 
বর্তমানে দ্রুতগতির সুপারকম্পিউটার সেকুইয়ার চেয়ে রোডরানার ১৫ গুণ পিছিয়ে পড়েছিল। সেকুইয়া ১৬.৩২ পেটাফ্লপ বা একসঙ্গে ৭৮ লাখ দ্রুতগতির ল্যাপটপের গতিতে হিসাব করতে পারে। 
রোডরানারে ছিল ১২ হাজারের বেশি বিশেষ প্রসেসর, ৯২ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক কেবল এবং রেফ্রিজারেটর আকৃতির ২৮৮ টি কাঠামো। 
বিশাল এ কম্পিউটারকে বিদায় জানাতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক গ্রে গ্রিডার। তাঁর ভাষ্যে, ‘সুপার কম্পিউটারের ব্যবহার এবং সুপার কম্পিউটার তৈরির ধারণা বদলে দিয়েছিল রোডরানার। বিশেষ ধরনের প্রসেসরগুলো নতুন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। রোডরানার তৈরির বিষয়টি সবার দৃষ্টি কাড়তে পেরেছিল। রোডরানারের বিদায়ের সময়ও আমরা এ সুপারকম্পিউটার থেকে অনেক কিছু শিখছি।’

সুত্রঃ প্রথম আলো (২/৪/২০১৩)

সোমবার, ৪ মার্চ, ২০১৩

স্মার্টফোনের চার্জ বাঁচান

বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটারের অনেক বৈশিষ্ট্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। আগে কম্পিউটার দিয়ে করতে হতো এমন অনেক কাজই এখনকার আধুনিক স্মার্টফোন দিয়ে করা যাচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বহু ধরনের গেম এবং কাজের অ্যাপ। আর এই এত ধরনের অ্যাপ চালানোর ফলে ফোনের ব্যাটারির চার্জও কমে যায় দ্রুত। তবে অনেক অ্যাপ ব্যবহার করলেই যে ব্যাটারির চার্জ খুব দ্রুত কমে যাবে, ব্যাপারটি এমনও নয়। খুব সাধারণ কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে এ ধরনের অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
ভালো ও খারাপ মানের অ্যাপ সম্পর্কে জানুন: স্মার্টফোনের জন্য যে লক্ষাধিক অ্যাপ রয়েছে তার মধ্যে এমন অনেক অ্যাপ আছে যেগুলোর প্রোগ্রামিং ত্রুটি অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপগুলো মোবাইলের পাওয়ার ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক নয়। ফলে এ ধরনের অ্যাপগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকে, যখন সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসভিত্তিক ডিভাইসগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাটারির ব্যবহার মনিটরিং করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ রয়েছে। বেশ কিছু অ্যাপ মনিটর করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন কীভাবে ব্যবহার করলে আরও দীর্ঘক্ষণ চার্জ থাকবে, সেটিরও পরামর্শ দেয়।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকরীদের জন্য জুস ডিফেন্ডার নামের (http://goo.gl/vibyI) একটি জনপ্রিয় অ্যাপ রয়েছে। স্মার্টফোনটি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার জন্য এই অ্যাপ বেশ কিছু সুবিধা দিয়ে থাকে, যেমন, ৩জি/৪জি বা ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় ব্যাটারি-ব্যবস্থাপনা। নির্দিষ্ট সার্ভিসগুলো চালু বা বন্ধ করার জন্য সিডিউল নির্ধারণ করে দেওয়া, নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াইফাই বন্ধ করে দেওয়া ইত্যাদি।
ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন অ্যাপগুলো চালু আছে: এমন ঘটনা হতেই পারে, যে অ্যাপগুলো বন্ধ আছে বলে ধরণা করা হলেও সেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলছে এবং যার ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্মার্টফোনের ব্যাটারি খরচ হচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসে এ ধরনের অ্যাপগুলো খুঁজে বের করার কাজটি বেশ সহজ। আইওএস থেকে হোম বাটনে দুবার ক্লিক করে এই তালিকাটি পাওয়া যাবে।
অ্যান্ড্রয়েডে ‘সেটিংস’ থেকে ‘অ্যাপলিকেশন’-এ যেতে হবে এবং সেখানে ‘রানিং সার্ভিসেস’ ট্যাব থেকে চালু রয়েছে এমন অ্যাপের তালিকা দেখা যাবে। বর্তমানে ব্যবহূত হচ্ছে না এমন অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া যাবে এখান থেকে। তবে কিছু সিস্টেম অ্যাপ সব সময়ই চালু থাকবে, সিস্টেম অ্যাপগুলো বন্ধ করা হলে অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহারে অসুবিধা হতে পারে। যেমন, জিমেইল অ্যাপটি নতুন কোনো ই-মেইল আসছে কি না, সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চেক করে। এই সার্ভিসটি বন্ধ করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ই-মেইলের নোটিফিকেশন পাওয়া যাবে না।
স্মার্টফোনগুলোতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপ সিনক্রোনাইজেশনের অপশন থাকে। কিছু কিছু অ্যাপের নিয়মিত সিঙ্ক করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এমন বেশ কিছু অ্যাপ আছে যেগুলোর ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় সিঙ্ক বন্ধ রাখা যেতে পারে। যেমন, যোগাযোগের জন্য প্রতিনিয়ত ই-মেইল চেক করা প্রয়োজনীয় হতে পারে, কিন্তু সব সময়ের জন্য ফ্লিকার, আবহাওয়ার খবর জানার অ্যাপগুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ না-ও হতে পারে।
চার্জ দেওয়ার সময় ব্যাটারি ঠান্ডা জায়গায় রাখুন: অধিকাংশ স্মার্টফোনে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এবং বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত যে অত্যধিক উচ্চ তাপমাত্রায় এ ধরনের ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যায়। এ ধরনের ব্যাটারিগুলো ৩২ থেকে ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার মধ্যে সঠিকভাবে কার্যকর থাকে। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় ব্যবহার করা হলে ফোনের কার্যক্ষমতা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
ফোনের তাপমাত্রা যেন খুব দ্রুত বেড়ে না যায়, সে জন্য সাধারণ কিছু অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন, যেমন, সরাসরি সূর্যের আলোয় ব্যবহার না করা, পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন সেগুলো হলো, ফোনের সঙ্গে যদি ফোনকভার বা অন্যান্য কিছু ব্যবহার করা হয়, চার্জ করার সময় সেটি খুলে রাখা, চলাফেরার সময় ফোনটি সব সময় হাতে না রেখে ব্যাগ বা বেল্ট ক্লিপের সঙ্গে রাখা উচিত। ব্যাটারি অতিরিক্ত চার্জ করা হলেও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যায়। তাই সব সময়ই মুঠোফোনটি চার্জারের সঙ্গে লাগিয়ে না রেখে যখন চার্জ কমে যাবে, কেবল তখনই চার্জে দেওয়া উচিত।
শুধু প্রয়োজনের সময় ফোরজি ব্যবহার করুন: স্মার্টফোনগুলোতে এখন থ্রি-জি বা ফোর-জি প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা যোগ করা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য প্রচুর পরিমাণ ব্যাটারির পাওয়ার প্রয়োজন হয় এবং নেটওয়ার্ক দুর্বল রয়েছে, এমন এলাকায় ব্যাটারি শেষ হয়ে যাবে আরও দ্রুত। আবার এমন যদি হয়, ব্যবহারকারী নতুন একটি জায়গায় যাচ্ছেন যেখানে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। সে ক্ষেত্রে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখা যেতে পারে, আবার নতুন জায়গা খুঁজে পাওয়ার জন্য ফোনের জিপিএস বিশেষ সহায়ক হতে পারে। কিন্তু এই সেবাটি সব সময়ের জন্য ওপেন করে রাখা উচিত নয়। ব্লু-টুথের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে।
নতুন স্মার্টফোনগুলোর ব্যাটারির একটি বড় অংশ খরচ হয় উচ্চ রেজ্যুলেশনের উজ্জ্বল স্ক্রিনের জন্য। সব সময় একটি উজ্জ্বল স্ক্রিন দেখানোর চেয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঔজ্জ্বল্য নিয়ন্ত্রণ করার অপশনটি অধিক কার্যকর।
বাড়তি একটি ব্যাটারি, চার্জার রাখুন: দীর্ঘ সময় ব্যাটারি ব্যবহার করার বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করার পরও যদি ফোন চাহিদা অনুযায়ী কার্যকর না হয়, তবে একাধিক ব্যাটারি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেন একটির চার্জ শেষ হলে অন্যটি ব্যবহার করা যায়। তবে আইফোন বা এ ধরনের কিছু ডিভাইসে ব্যাটারি পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। সেখানে ব্যাটারি বুস্টার বা অতিরিক্ত চার্জার কেনা যেতে পারে।
–ইয়াহু নিউজ অবলম্বনে
দিল ওয়ার আলম (আলভী)